২-৩ দিন হল মুম্বাইয়ের বস্তি থেকে উঠে আসা ছবিটি ৮টি অস্কার পেল। অনিল কাপুর ছিলেন। ছিলেন আরও কিছু ভারতীয় মুখ। পর্দার সামনে এবং আড়ালে। এমন কি শুনেছিলাম বলিউডের এক পরিচালকও নাকি এই ছবিটি পরিচালনা করার দৌড়ে ছিলেন। শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে কোনও ভারতীয় পরিচালক ছবিটি বানালে দুনিয়াজোড়া এই জয়-জয়কার সম্ভব হত না। বরং সাবানা আজ়মীর মত কিছু বোদ্ধা এটাও বলতে চাইতেন যে, ভারতের পরিচালক ভারতের দারিদ্র্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরে নাম কামাতে চাইছেন। কিন্তু পরিচালক একজন ব্রিটিশ। এবং যেহেতু দাসত্ব এখনও আমাদের ধমনীতে বইছে, তাই গদগদ হ’ইয়ে বলতেই হচ্ছে ‘ওঃ সার! কী ফিল্মই না বানালেন!’
সে যাই হোক, ভারতীয়দের খুশি এবং গর্বিত হওয়ার একটা বড় কারণ আমাদের অনেকেরই প্রিয় আল্লা রাখা রহমানের একই সাথে ২টি অস্কার বিজয়। এতদিন শুধুমাত্র রে-দাদার ভাঁড়ারে একটা অস্কার ছিল। এবার একসাথে ২টো। আনন্দ তো হবেই। কারণ ভারতীয় হিসাবে আমাদের গর্ব করার জায়গাটা খুব ছোট। তাই যখন একজন বিশ্বনাথন আনন্দ দাবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হন বা একজন অভিনব বিন্দ্রা লক্ষ্যবিদ্ধ করেন ওলিম্পিকের স্বর্ণ পদক বা একজন কল্পনা চাওলা পাড়ি দেন মহাকাশে; তখন ছাতির বহর ছত্রিশ ইঙচি হতে বাধ্য। আর তাই রহমানের যুগ্ম অস্কার জয় নিঃসন্দেহে আমাদের ডায়েরীতে একটা স্মরণীয় দিন।
তবু এখানেই ২টো প্রশ্ন আসে।
১। রহমানের ২টো অস্কার বলছি কেন? ১টার অর্ধেক তো গুলজ়ারেরও প্রাপ্য। কিন্তু সে কথাটা তেমন জোরালো শুনতে পাচ্ছি কই? এটা ঠিকই যে গুলজ়ারের মত কবিকে আধখানা অস্কার দিয়ে মেপে ফেলাটা অন্যায়। তবু মরণোত্তর ভারতরত্ম খেতাবের আগে তাঁর জীবদ্দশাতেই এটুকু প্রাপ্য সম্মান তাঁকে দিলামই না হয়। না হয় নিউজ় টিকারে আর একটু বড় ক’রেই দেখালাম তাঁর নাম। রহমানের সাথে সাথেই আমরা গুলজ়ারের নামও বলি আসুন। আপনার বাড়ির ছোটরাও জানুক, গুলজ়ার একজন কবির নাম। নিজে কবি ব’লেই হয়ত আর একজন অগ্রজ কবির হয়ে ওকালতি ক’রে ফেললাম।
২। রহমানের ভক্তকুল আপ্লুত। আহা! ওস্তাদ কী ধুন বানিয়েছেন! সারা ভারত এবং ভারতের বাইরেও বাজছে — জয় হো! কিন্তু একটূ ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলে, আলোচ্য চলচ্চিত্রটির সংগীত রোজা, বোম্বে বা হালফিলের রঙ দে বসন্তী’র তুলনায় দ্বিতীয় শ্রেণীর। অস্কার পাওয়া উচিত ছিল কী না সে প্রশ্নে যাচ্ছি না। এমনকি তৃতীয় বিশ্ব থেকে সুন্দরী প্রতিযোগিতার মিস ইউনিভার্স বা মিস ওয়ার্ল্ড তুলে আনার চক্রান্তের তুলনাতেও গেলাম না। কিন্তু এই পুরস্কারের পর বোধহয় সময় এল রহমানের ঘুরে তাকানোর। প্রয়োজন আত্মসমালোচনার। সেটার অবসর রহমান পাবেন তো? সমস্ত সৃষ্টিশীল মানুষের নাব্যতার লেখচিত্র সমান নয়। তাই প্রয়োজন পরিমিতিবোধ এবং নিরন্তর অনুশীলন। আশা করা যাক রহমান আমাদের হতাশ করবেন না। আরও বেশ কয়েকটা অস্কার তাঁর সুরেলা আঙ্গুলগুলো জড়িয়ে ধরুক। এমন প্রার্থনাই আপাততঃ রইলো।
{ 1 comment… read it below or add one }
রোহনদা, তোমার দুটো কথাই খুব সত্যি। একদম একমত।
আর অস্কার প্রসঙ্গে বলতে চাই একটা কথা। এর আগেও অনেক সিনেমা অস্কার পেয়েছে যেগুলো অস্কার না পেলেও চলত। তাই স্লামডগ অস্কার পাওয়াতে আমার বিশেষ মাথা ব্যথা নেই। বরং ভারতের অনেক শিল্পীদের ওপর অস্কারের চোখ-ধাঁধানো আলো পড়ল ভেবে ভাল লাগছে। একাডেমী অ্যাওয়ার্ডস্ কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল এর মত কোন ইভেন্ট নয়। এটা পুরোদস্তুর একটা হলিউড ইভেন্ট। তাই হলিউড এর ছবি প্রাধাণ্য পাবে এটাই স্বাভাবিক। আর ‘পভার্টি পর্ন’ সঙ্ক্রান্ত বিতর্ক সম্পর্কে আমার অভিমত হল – এখানে কোন বিতর্কই নেই! সত্যি কথা বললেই দোষ!